সোনার দামে বড় ধস: এক লাফে ভরিতে কমল ৭ হাজার টাকার বেশি

 দেশের বাজারে সোনার লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পর এবার বড় ধরনের দরপতনের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। দেশের বাজারে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ মঙ্গলবার ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট ক্যারেট ভেদে রুপার নতুন দরের তালিকাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। মূলত বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক দিনে বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে এই বড় সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে বাজুস।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, আজ থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকায় কেনা যাবে, যা আগে ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

রুপার দামের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট সোনার দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বৃদ্ধি পায়। তবে আজকের এই পতন ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। সেখান থেকে ধাপে ধাপে দাম কমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।

বিশ্ববাজারের চিত্র:
বিশ্ববাজারে বর্তমানে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গোল্ড প্রাইস ডটঅর্গ-এর তথ্যমতে, গতকাল এক দিনেই প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ১৫৫ ডলার কমেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৪৫৫ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার এই দাম ছিল ৪ হাজার ৬২৫ ডলার। সাধারণত রাজনৈতিক উত্তেজনা বা যুদ্ধের সময় সোনার দাম বাড়ে, কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও সোনার এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের নজর কেড়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।