নাটোরে অটোভ্যানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিল ঘাতক বাস: নেপথ্যে কী?

 নাটোরের ব্যস্ততম বড়হরিশপুর বাইপাস এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের বেপরোয়া গতির বলি হলেন দুই ব্যক্তি। শনিবার দুপুরে রাজিশাহী থেকে ঢাকাগামী ‘শিশির পরিবহন’ নামক একটি দ্রুতগামী বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন এক অটোভ্যান চালক ও তার যাত্রী। ঘাতক বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।

নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—নাটোর সদর উপজেলার জয়নগর পূর্বপাড়া এলাকার জমশেদ আলীর পুত্র ও ভ্যান চালক সাব্বির হোসেন এবং বড়হরিশপুর ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের হাসান আলীর পুত্র যাত্রী সাঈদ হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর নাগাদ অটোভ্যানটি বাইপাস সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে আসা শিশির পরিবহনের বাসটি সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও সাঈদের মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসের চালক ও হেলপার গাড়িটি ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ বাসটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে ঘাতক চালক ও সহযোগীকে আটকের জন্য সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।