নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের পরিবর্তে পুরাতন সিলেবাসের (২০২৫ সাল) প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করার অভিযোগে উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ জন শিক্ষককে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবিরের স্বাক্ষরিত এক চিঠির প্রেক্ষিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। ঘটনাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে ১৭৭ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পরীক্ষার শুরুতে তাদের হাতে ২০২৬ সালের সংশোধিত সিলেবাসের প্রশ্নের বদলে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরাতন প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরবর্তীতে সঠিক সিলেবাস অনুযায়ী নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে দীর্ঘ ১২৫ মিনিট পর পুনরায় পরীক্ষা শুরু করা হয়। শিক্ষার্থীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সময় নষ্টের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তাদের অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে কেন্দ্র সচিব আব্দুল মতিন সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন বাহার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ওই কেন্দ্রের ১১ জন কক্ষ পরিদর্শককে চলমান এসএসসি পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন— শিউলী আক্তার, ফারজানা হোসেন স্বপ্না, মনোয়ারা বেগম, রওনক আরা বেগম, আনিসুর রহমান, ছানোয়ার বেগম, আব্দুল হামিদ, সুমাইয়া আক্তার, মোশারফ হোসেন, বদরুন নাহার ইভা ও মনিরুজ্জামান।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত দেশ মিডিয়াকে বলেন, "পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার গোপনীয়তা ও নির্ভুলতা রক্ষা করা শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব। চরম দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ১১ শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মানসিক সহযোগিতা ও অতিরিক্ত সময় নিশ্চিত করেছি যাতে তাদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।"
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া