‘বাংলাদেশে নকল নামক জিনিসটি আর নেই’, বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর বড় হুংকার

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধে যুক্ত হবে, তাদের এমন কঠোর সাজার মুখোমুখি করা হবে যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি করে বলেন, “বাংলাদেশে এখন আর নকল করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নকল নামক সংস্কৃতি এ দেশ থেকে আমরা চিরতরে বিদায় করে দিয়েছি। এখন আমাদের পরবর্তী ‘মিশন’ হলো শিক্ষার গুণগত মান বা ‘কোয়ালিটি’ নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জানান, সরকার কেবল পরীক্ষা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং দাপ্তরিক জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে একটি আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষক নিয়োগের জট নিরসনেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আইনি জটিলতার কারণে ২০১৭ সাল থেকে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম থমকে ছিল। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নেই, যা পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে মহামান্য আদালত অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন এবং আগামী ২ জুলাই এই সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আদালতের রায়ের মাধ্যমে এই শিক্ষক সংকট দ্রুতই কেটে যাবে।

পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বড় ধরনের সংস্কারের তথ্য দিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে পুনর্মূল্যায়ন মানে ছিল কেবল নম্বর যোগ করার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয়েছে কি না তা দেখা। কিন্তু বর্তমান বিধি অনুযায়ী, পরীক্ষক যথাযথভাবে প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করেছেন কি না কিংবা কোনো প্রশ্নের প্রাপ্য নম্বর কম দেওয়া হয়েছে কি না—এই প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি মূলত মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সাথে এক খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দাবির বিপরীতে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধি করা হবে অথবা বিকল্প স্থানে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হবে। উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে ইউরোপ ও আমেরিকার আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর আদলে নতুন আইনগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উক্ত সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুল আহমেদ, ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দিকীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।