দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সবচাইতে বড় শিক্ষা মহাযজ্ঞ ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় এবার ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে এটিই পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সবচাইতে বড় পাবলিক পরীক্ষা, যা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, পরীক্ষা প্রতিদিন দুই শিফটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো—পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার সমতা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে এবার এক চুল পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ প্রশাসন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো রোধে বিশেষ সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক থাকবেন এবং প্রশ্নপত্রের ‘সেট কোড’ পরীক্ষার মাত্র কয়েক মিনিট আগে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে কেন্দ্র সচিবদের জানানো হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সময়ের কিছুটা তারতম্য হবে।
২. প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং দুই অংশের মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না।
৩. ওএমআর (OMR) শিটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে এবং উত্তরপত্র কোনোভাবেই ভাঁজ করা যাবে না।
৪. পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৫. পরীক্ষায় কেবল সাধারণ সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) এবং এনালগ বা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করা যাবে।
৬. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাঁর পরীক্ষা বাতিল করা হবে। জালিয়াতি বা অপকৌশলের আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করে দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।