এইচএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ চিত্র: ৩৬ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থীই দিলেন না অংশ!

দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা শুরু হলেও পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের এক বিশাল অংশ এবার পরীক্ষার মূল মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই এবারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

বিগত দুই বছরের শিক্ষাবর্ষ (২০২৪-২৫) পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণিতে ‘নিবন্ধন’ বা রেজিস্ট্রেশন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু বিধি অনুযায়ী পরীক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত ‘ফরম পূরণ’ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখের মতো শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিবন্ধনের পরও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ‘গ্যাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও প্রতি বছরই কিছু শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেও শেষ পর্যন্ত নানা কারণে পরীক্ষায় বসে না, তবে এবারের হার অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশ না নেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই ঝরে পড়ার হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর যেখানে সোয়া ৪ লাখের কিছু বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বিরত ছিল, এবার সেই সংখ্যা ৫ লাখের ঘর ছাড়িয়ে এক নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।

হঠাৎ করে ঝরে পড়ার এই উচ্চ হার দেশের শিক্ষা কাঠামোর ওপর এক বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবারের ‘বাজেট’ সংকুলান না হওয়া কিংবা কর্মসংস্থানের প্রতি অকাল ঝুঁকে পড়ার মতো আর্থ-সামাজিক কারণগুলো এর পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষা বোর্ডগুলো এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পরীক্ষার শুরুর দিনেই এমন বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি কেবল শিক্ষা বিভাগকেই নয়, বরং পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।