মাধ্যমিক থেকেই তৃতীয় ভাষা আর ফ্রি ওয়াই-ফাই! বদলে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করেছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) সুবিধা চালুর মতো আধুনিক সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ১৮০ দিনের কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। মূলত শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো গতানুগতিক মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীলতা ও বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়ন করা। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বাজেটের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষকের হাতে অত্যাধুনিক ডিজিটাল সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হবে, যা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনায় নতুন গতির সঞ্চার করবে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অধিকতর সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেবল সাধারণ শিক্ষা নয়, বরং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ডিজিটাল এডু-আইডি’ (Digital Edu-ID) চালুর বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-কে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্বমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অগ্রাধিকার। মাদ্রাসাশিক্ষার আধুনিকায়নের বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী; যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি (IT), বিজ্ঞান ও পেশাভিত্তিক শিক্ষার সংমিশ্রণ ঘটানো হবে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হবে। সামগ্রিকভাবে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা স্তরে একটি দৃশ্যমান এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।