মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট): দাম্পত্য কলহ আর বিচ্ছেদের নির্মম বাস্তবতায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিজের দুই বছরের অবুঝ সন্তানকে রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এক গর্ভধারিণী মা। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীতে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার জন্মদাতা পিতার পরিবার তথা দাদিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত শিশুটির আশ্রয় হয়েছে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের জেলে পাড়া সংলগ্ন একটি ইটভাটার সামনের সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. পলাশ ও মিতু আক্তারের মধ্যে গত তিন মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মা মিতু আক্তার তার দুই বছরের শিশুটিকে ইটভাটার সামনে সড়কের পাশে রেখে কৌশলে এলাকা ত্যাগ করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি ওই সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘক্ষণ একা পেয়ে শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে দাদির কাছে নিয়ে যান। কিন্তু দাদিও শিশুটির দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনতা শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহর বাসভবনে হাজির হন। ঘটনার ভয়াবহতা ও শিশুটির অসহায়ত্ব দেখে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিজের জিম্মায় নেন। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুটির জন্য নতুন পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, শিশুটির বাবা পলাশ বর্তমানে কর্মস্থল বা অন্য কোনো প্রয়োজনে মোরেলগঞ্জের বাইরে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামী তিন দিনের মধ্যে সন্তানকে সশরীরে এসে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, "শিশুটির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি নিজের বাসভবনেই তাকে রাখার ব্যবস্থা করেছি। তার প্রয়োজনীয় যত্ন ও খাবারের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।" শিশুটির ভবিষ্যৎ অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে এবং আইনি দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।