ঢাকার দৌড়ঝাঁপ কি তবে শেষ? আজ থেকে ১০ জেলা হাসপাতালেই মিলছে আইসিইউ সেবা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে এক বড় ধরনের বিকেন্দ্রীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন মাইলফলক রচিত হতে যাচ্ছে। জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে। আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক ইউনিটগুলোর শুভ উদ্বোধন করবেন। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সাধারণ মানুষকে জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর রাজধানী ঢাকা বা বড় বিভাগীয় শহরগুলোর দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকতে হবে না। এখন থেকে নিজ জেলাতেই শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক—উভয় শ্রেণির জটিল রোগীরা বিশ্বমানের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পাবেন। এতে করে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পথিমধ্যে রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আইসিইউ সুবিধা পেতে যাওয়া হাসপাতালগুলোর তালিকায় রয়েছে— মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি আইসিইউ ইউনিটে অত্যাধুনিক ‘পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর’, ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ এবং জীবনদায়ী মনিটরসহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। কেবল যন্ত্রপাতির আধুনিকায়নই নয়, বরং এই কেন্দ্রগুলো সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং কারিগরি জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। ইআরপিপি প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে এমনভাবে শক্তিশালী করা, যাতে যেকোনো ভবিষ্যৎ মহামারি বা জরুরি স্বাস্থ্য বিপর্যয় মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান শহর-গ্রাম বৈষম্য ঘুচবে বলে আশা প্রকাশ করছে সরকার।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।