ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়লে ওষুধ রফতানিতে কী প্রভাব পড়বে? যা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন বা টিকা উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির বিশাল এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের বৈশ্বিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য খাত, অতীত সরকারের আমলের নানা অব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত বিশ্ববাজারে ক্রমশ একটি শক্ত ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি মানসম্মত ওষুধ রফতানি হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা ও বিশ্বমানের একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি অতীত সরকারের আমলের স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়েও তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।


সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "অতীত সরকারের সময় দেশে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন উৎপাদন বা সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এমনকি সংকটকালীন সময়ে ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো অতি জরুরি লাইফ-সেভিং মেডিকেল উপকরণেরও তীব্র ঘাটতি ছিল।" তবে পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের আন্তরিক সহযোগিতায় সেই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বৈঠকে দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও চিকিৎসার প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আইভি স্যালাইনের কোনো সংকট যেন না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এক লাখ ইউনিট স্যালাইন সরকারকে অনুদান হিসেবে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্টোরে এক লাখ স্যালাইনের মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীদের জন্য উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। তারপরও যদি দেশজুড়ে রোগীর চাপ বাড়ে, তবে দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত সাপ্লাই বা সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে মন্ত্রণালয়।


এদিকে, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুমৃত্যুর হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছিল, তার জবাব দিতে তাদের আরও দুদিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এই নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


একই সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুম নিয়ে সরকারের আগাম সতর্কতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্তের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে মাঠপর্যায়ে নানা কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতে দেশের স্বাস্থ্যখাত এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত-এ কথা জোর দিয়ে জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু সরকার নয়, সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ পুরো স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়নে এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।