বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বৈচিত্র্যের রঙ ছড়ানো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যানে একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠনের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করছে। গত বুধবার (১০ জুন ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাসী। কোনো নাগরিককে পিছিয়ে রেখে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাই-বোনদের অধিকার রক্ষায় আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।”
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের প্রস্তাবিত ‘উচ্চ কক্ষ’ বা আপার হাউসেও তাঁদের জন্য আসন বরাদ্দ রাখার ঐকান্তিক চেষ্টা চালানো হবে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষার প্রসার ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেধাবী সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার বিশেষ কোটা এবং বিদেশে বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো হবে। এ ছাড়া আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে এবং অত্যন্ত কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করবে সরকার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি নির্দিষ্ট অধিদপ্তরের অধীনে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হলে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে বলেন, “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাঁরা যদি নার্সিং বা স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হন, তবে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।” তিনি তাঁদের এই পেশায় এগিয়ে আসার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠিত হলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বাজেট বরাদ্দ এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে। সরকারের এই ইতিবাচক মনোভাবকে পাহাড় ও সমতলের পিছিয়ে পড়া মানুষেরা তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।