জ্বালানি সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পরিবর্তন; বৃহস্পতিবার আসছে নতুন ‘রোডম্যাপ’

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাস পরিচালনার পদ্ধতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে সরকার। সপ্তাহে কতদিন সশরীরে (অফলাইন) এবং কতদিন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (অনলাইন) ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের অনুপাত কী হবে, তা নিয়ে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এ সপ্তাহের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাব বলে আশা করছি। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ‘স্টেকহোল্ডার’ বা অংশীজনদের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাঁদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণের পর আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, আজই তিনি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিএনসিসি’র (BNCC) প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সারা বিশ্বই এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল ও বাস্তবসম্মত ‘পলিসি’ গ্রহণ করছে, যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশও শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ৪০ দিনের বার্ষিক ছুটির পর গত ২৯ মার্চ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খুলেছে। সশরীরে পাঠদান শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় ইস্যুটি সামনে আসায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নতুন করে কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে সপ্তাহে হয়তো নির্দিষ্ট কিছু দিন অনলাইনে ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থেকে পড়ার ব্যবস্থা করা হবে, যা যাতায়াত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। তবে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে কীভাবে এই সমন্বয় করা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া