চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের জন্য প্রহর গুনছেন সারা দেশের প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতীক্ষা আর অভিভাবকদের উত্তরোত্তর বাড়তে থাকা উৎকণ্ঠার মাঝে অবশেষে মিলল ফলাফল প্রকাশের এক সম্ভাব্য রূপরেখা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এই মেগা পাবলিক পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। মূলত বারবার তারিখ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসনে দ্রুততম সময়ে ফল প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে নীতিনির্ধারণী ‘ক্যাবিনেট’।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর কারিগরি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল তৈরির যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের একটি অলিখিত ‘প্রটোকল’ বা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চলতি বছর ২০ মে এসএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ায় সেই হিসাব মতে গত ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে অনিবার্য কিছু কারণে সেই সময়সীমা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এই অতিরিক্ত বিলম্বের ফলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া এবং আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষের ‘বাজেট’ বা ক্যালেন্ডার নিয়েও এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল জুলাইয়ের ২০ তারিখের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা। কিন্তু কিছু যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা হলো, আমরা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। আগামী ২৭ বা ২৮ তারিখের মধ্যে রেজাল্ট পুরোপুরি ‘রেডি’ হয়ে যাবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে সমন্বয় করে সুবিধাজনক সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ডগুলো যদি ২৮ তারিখের মধ্যে সব তথ্য ‘আপলোড’ করে ফলাফল চূড়ান্ত করতে পারে, তবে চলতি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে রেজাল্ট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে ৩০ জুলাইকে সবচেয়ে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিজিটাল এই যুগে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ‘স্মার্টফোন’ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই দ্রুততম সময়ে ফলাফল জানতে পারবেন। এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন সচল রাখতে মন্ত্রণালয় এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব না ঘটে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।