ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরাতে চান? দেখে নিন ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা ১০ এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম

বর্তমান সময়ের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক করপোরেট পরিমণ্ডলে নিজেকে যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ইএমবিএ (EMBA) প্রোগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে যারা কর্মজীবন সচল রেখেই নিজেদের ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান, তাঁদের কাছে এই ডিগ্রি এখন প্রথম পছন্দ। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউএস (QS) তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘এক্সিকিউটিভ এমবিএ র‍্যাঙ্কিং ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এই বৈশ্বিক তালিকায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঈদ বিজনেস স্কুল।

কিউএস কর্তৃপক্ষ বিশ্বের প্রায় ২০০টিরও বেশি বিজনেস স্কুলকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে এই তালিকাটি চূড়ান্ত করেছে। এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পাঁচটি প্রধান সূচককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা, বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিং, এবং ক্যারিয়ারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। ২০২৬ সালের এই র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী শীর্ষ ১০-এ আধিপত্য বিস্তার করেছে মূলত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং স্পেনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০২৬ সালের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের সেরা ১০টি এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম হলো—
১. অক্সফোর্ড বিজনেস স্কুল, যুক্তরাজ্য।

২. এইচইসি প্যারিস, ফ্রান্স।

৩. এমআইটি স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র।

৪. আইইএসই বিজনেস স্কুল, স্পেন।

৫. নর্থওয়েস্টার্ন কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র।

৬. ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র।

৭. লন্ডন বিজনেস স্কুল, যুক্তরাজ্য।

৮. ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হোয়ার্টন স্কুল, যুক্তরাষ্ট্র।

৯. ইনসিয়াড, ফ্রান্স এবং

১০. ওয়ারউইক বিজনেস স্কুল, যুক্তরাজ্য।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের যুগে তথ্যের সহজলভ্যতা থাকলেও এই ধরণের বিশেষায়িত প্রোগ্রামগুলো পেশাজীবীদের কেবল একটি কাগুজে ডিগ্রি দেয় না, বরং বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ‘ক্যাবিনেট’ বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তি ও দূরদর্শিতা প্রদান করে। যারা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বা বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে চান, তাঁদের জন্য এই র‍্যাঙ্কিংটি একটি সুনিশ্চিত বিনিয়োগের রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। ২০২৬ সালের এই তালিকাটি মধ্য ও জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য তাঁদের পরবর্তী উচ্চশিক্ষার গন্তব্য নির্ধারণে এক বিশেষ সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।