১৮ কোটি মানুষকে সম্পদে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা

দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কারিগরি শিক্ষাকে এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে ‘বাজারমুখী’ হতে হবে। বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সকালে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী দেশের বর্তমান কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সূচক এবং ‘কেপিআই’ (Key Performance Indicators) পর্যালোচনা করেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার কারিকুলাম ও সিলেবাস অনেক ক্ষেত্রে সেকেলে রয়ে গেছে। এই ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) জোরদার করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রীর মতে, ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার মধ্যে যদি শক্তিশালী সংযোগ তৈরি না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। তাই পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ‘ব্যবহারিক’ ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর বেশি জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের মানবসম্পদ তৈরির ‘প্রধান কারখানা’ হিসেবে অভিহিত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, “বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি জনগণের এই বিশাল শক্তিকে যদি সঠিকভাবে দক্ষতায় রূপান্তর করা যায়, তবে এটিই হবে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি। সারা বিশ্বে যখন জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।” তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সম্প্রসারিত করা হবে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, গতানুগতিক বা দায়সারাভাবে কাজ করার সময় এখন আর নেই। উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় বসে না থেকে প্রত্যেকে নিজ নিজ বিভাগ ও প্রকল্পের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো নিজ থেকে নির্ধারণ করুন। নতুন উদ্যম ও উদ্দীপনা নিয়ে দ্রুতগতিতে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কারিগরি শিক্ষা খাত সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ লক্ষ্যে তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এই সংস্কার কার্যক্রম সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।