সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ ও বিতর্কের অবসান ঘটাতে এবার কঠোর তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে অত্যন্ত ‘তড়িঘড়ি’ করে সম্পন্ন হওয়া এই বিশাল নিয়োগে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের গুঞ্জন উঠেছিল। যদিও চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশ এই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন, তবুও গত সরকার ও পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই এই নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়। তবে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা এখন এই পুরো প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মূলত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সেখানে সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি যে বিশাল সংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, তাতে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে থাকে, তবে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে। যদি তদন্তে জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ মেলে, তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিয়োগের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে একযোগে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন ও ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আছে উল্লেখ করে ড. এহছানুল হক মিলন জানান, “এমপিওভুক্তির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়ে যায়নি; এটি এখনো আমাদের প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যেই রয়েছে। পুরো বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ‘রিভিউ’ করার সুযোগ রেখেছি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপে সাধারণ চাকরিপ্রার্থী এবং বঞ্চিত শিক্ষকদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষা খাতে যে স্থবিরতা ও দুর্নীতির পাহাড় জমেছে, তা দূর করতে মন্ত্রীর এই তদন্ত ও রিভিউ করার ঘোষণা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এই শুদ্ধি অভিযান অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।