দেশের অন্যতম শীর্ষায়িত প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। লেভেল-০১ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালীন মেধাক্রম জালিয়াতি করে ভর্তির চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
চুয়েটের ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত তারিখে ওই শিক্ষার্থী যখন ভর্তির জন্য উপস্থিত হন, তখন তার দেওয়া তথ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্যের মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। গভীর তদন্তে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী তার ভর্তি আবেদনপত্রে মূল মেধাক্রম পরিবর্তন করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তার মেধাক্রম বাতিল করে তাকে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ভর্তির মতো একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এমন অনৈতিক হস্তক্ষেপের ঘটনাটি চুয়েট প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে ধরা পড়ে। এ প্রসঙ্গে ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসাইন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “ভর্তির সময় একজন শিক্ষার্থী নিজের মতো করে কারসাজি করা একটি মেধাক্রম নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল। তবে কাকতালীয়ভাবে একই মেধাক্রমের প্রকৃত অধিকারী আরও একজন শিক্ষার্থী ঠিক ওই সময়েই ভর্তির জন্য আসে। একজনের মেধাক্রমে দুইজনের দাবি ওঠার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই আমরা যাচাই-বাছাই শুরু করি এবং জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলি।”
জালিয়াতি ধরা পড়ার পরপরই কমিটির জরুরি সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো অনৈতিক ও শাস্তিযোগ্য কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মেধা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় চুয়েট প্রশাসন বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।