ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে আর ঢাকা যাওয়া হলো না! পাতা কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মা-ছেলের মৃত্যু

ঈদের আনন্দঘন ছুটি কাটাতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন যুবক ছেলে। কিন্তু কে জানত, এই ছুটিই তাঁর জীবনের শেষ ছুটি হতে চলেছে! বৃষ্টির ঠিক আগমুহূর্তে বাড়ির পাশের জমিতে শুকাতে দেওয়া গাছের পাতা কুড়াতে গিয়ে ভয়ংকর এক বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন মা ও ছেলে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায়। একসঙ্গে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় পুরো এলাকায় এক শোকাবহ হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামে প্রকৃতির এই নির্মম থাবার শিকার হন তাঁরা। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের সুনীল চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী (৫৫) এবং তাঁদের তরুণ ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩০)।


নিহতদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার বরাতে ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহীন আলম সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, তরুণ সোহাগ ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। ঈদের টানা ছুটিতে তিনি নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেয়। এ সময় বাড়ির পাশের খোলা জমিতে শুকাতে দেওয়া গাছের পাতা দ্রুত তুলে আনতে যান সোহাগ। ছেলেকে সাহায্য করতে কিছুক্ষণ পরেই সেখানে ছুটে যান তাঁর মা কল্পনা রানীও। ঠিক সে সময়ই বিকট শব্দে তাঁদের ওপর বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের প্রচণ্ড আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই মাঠের ওই জায়গাতেই লুটিয়ে পড়েন মা ও ছেলে।


পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দুজনে। চোখের পলকেই একটি পরিবারের দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় গ্রামজুড়ে এখন শুধুই শোকের মাতম চলছে।


এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন যোগাযোগ রাখছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।