সোনার বাজারে বড় পতন: দুই দিনের ব্যবধানে কেন এত কমলো দাম?

দেশের বাজারে সোনার মূল্যে বড় ধরনের অস্থিরতার মাঝে এবার সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সকাল থেকেই সারাদেশে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর হয়েছে।

বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পাকা সোনার দাম হ্রাস পাওয়ার কারণেই সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে তাল মিলিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার ঠিক একই পরিমাণ অর্থাৎ ২ হাজার ১৫৮ টাকাই বাড়ানো হয়েছিল সোনার দাম। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দামের এই ভারসাম্য ফিরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, আজ থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার অলঙ্কার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হবে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা গতকাল রাত পর্যন্ত ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা থেকে কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমিয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ দফায় ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের ভরিতে ২ হাজার ৯৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমানো হয়েছে। তবে সোনার বাজারে এমন রদবদল ঘটলেও রূপার দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দাম বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। বাজুস নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে দেশীয় বাজারে এই দর সমন্বয় করে থাকে। বিয়ের মৌসুম এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দর পতন একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে তেলের দাম কিংবা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই দাম পুনরায় বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।