গত জুলাই মাসের রক্তঝরা গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবুল বারকাত। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন দেশ মিডিয়াকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ শুনানিকালে আবুল বারকাতের পক্ষে জামিন আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গতকাল সোমবার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন তাঁর পক্ষে জামিন আবেদন করলেও আদালত তখন তা নামঞ্জুর করেছিলেন। ফলে আজকের এই আদেশ তাঁর কারামুক্তির পথ প্রশস্ত করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধ্যাপক আবুল বারকাতের এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। গত বছরের ১০ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাঁকে জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ‘অ্যাননটেক্স গ্রুপ’-এর নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৭ জুন ওই ঋণ জালিয়াতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিন লাভ করেন তিনি। তবে সেই মামলায় মুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিম তাঁকে আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায়।
ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় পুলিশের করা গ্রেপ্তারি আবেদনে চাঞ্চল্যকর কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে আবুল বারকাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নীলক্ষেত এলাকায় গুলিতে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের মতো একজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির এমন স্পর্শকাতর মামলায় জামিন পাওয়ার ঘটনাটি আইনি ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শীঘ্রই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন। তবে আন্দোলনের সময় আর্থিক সহায়তার অভিযোগটি নিয়ে পুলিশ তাঁদের তদন্ত অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে কৌতূহল রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।