বৃষ্টি ছাড়াই ফুঁসছে হাওরের নদ-নদী: ৫ জেলার ১১ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম!

আকাশে ভারি মেঘ নেই, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিলক্ষিত হয়নি কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত। এমনকি ভারতের উজানেও নেই ভারী বর্ষণের রেকর্ড। তবুও এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে হাওরবাসীর। কারণ, বৃষ্টির তীব্র অভাব থাকা সত্ত্বেও হাওর বেসিনের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ফুলেফেঁপে উঠছে, যা এরই মধ্যে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগাম বন্যার এই অশনিসংকেতে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষ।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এক ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। পাউবো জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাওর বেসিনের ৫টি জেলার ৯টি নদীর মোট ১১টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার চরম মাত্রা অতিক্রম করেছে। উজানের পাহাড়ি ঢলের বিলম্বিত প্রবাহকেই এই আকস্মিক পানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।


সিলেট জেলার নদ-নদীর পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। সেখানে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে একলাফে ২২ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জেও। এই জেলায় মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে। একই জেলার জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে।


নেত্রকোনা জেলার নদ-নদীতেও পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে, যদিও কোথাও কোথাও পানি সামান্য কমার প্রবণতা দেখা গেছে। খালিয়াজুরিতে ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো তা বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে। জারিয়াজঞ্জাইলে ভুগাই-কংস নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেলেও বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, নেত্রকোনা পয়েন্টে মগরা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপরে এবং আটপাড়ায় ৩ সেন্টিমিটার কমে ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।


হবিগঞ্জ জেলায় নদীর পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, সুতাং রেল-ব্রিজ পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।


তবে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে মৌলভীবাজারে। সেখানে মনু নদীর পানি অবিশ্বাস্যভাবে ১১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদ-নদীর পানির সমতল বর্তমানে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।


সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। উজানে বৃষ্টি না থাকলেও ভাটিতে পানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা প্রাক-মৌসুমি কৃষিকাজ ও হাওর বেসিনের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।