ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাতই রয়ে গেল বস্তাবন্দী সেই মা ও নবজাতক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদের পাড় থেকে বীভৎস অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারী ও নবজাতকের লাশের পরিচয় গত ছয় দিনেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নিহতদের নাম-পরিচয় উদ্ধার করতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও রহস্য দানা বাঁধছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার সন্ধ্যায়। মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদের পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখতে পান মাটিচাপা দেওয়া একটি রহস্যময় বস্তা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই বস্তার ভেতর থেকে নারীর চুলের অংশ বেরিয়ে আসছিল এবং একটি কুকুর কামড় দিয়ে বস্তাটি টেনে বের করার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত ওই নারী ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীকালে পরিচয় শনাক্তের কোনো সূত্র না পাওয়ায় ধর্মীয় রীতি মেনে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনায় মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানিয়েছিলেন, বস্তার ভেতর নারীর সঙ্গেই একটি মৃত নবজাতক পাওয়া যায়। মৃত ওই নারী আনুমানিক সাত থেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, পাষণ্ডরা নির্যাতনের মাধ্যমে ওই নারীকে হত্যা করার পর সম্ভবত গর্ভের নবজাতকটি প্রসব হয়। অপরাধের সব চিহ্ন মুছে ফেলতে মা ও শিশু—উভয়কেই একই সঙ্গে বস্তাবন্দী করে নির্জন নদীর পাড়ে গভীর রাতে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।

মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আজ রোববার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ পারভেজ জানান, উদ্ধারের সময় লাশ দুটি প্রায় অর্ধগলিত ছিল। তিনি বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় দেখা গেছে ওই নারীর গলায় ওড়নার মতো একটি কাপড় প্যাঁচানো ছিল। এছাড়া তাঁর ডান হাতের মাংসপেশি অবশিষ্ঠ ছিল না, যা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে কুকুরে কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছে।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন নমুনা বা ‘স্যাম্পল’ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও নিহতদের আত্মীয়-স্বজন বা কোনো পরিচিত জন এখনো পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেননি, যা তদন্ত কাজকে কিছুটা ধীর করে দিচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং নিহতদের পরিচয় পেতে দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানোসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া