চাকা সারাতে গিয়েই চিরবিদায়: ফেনীতে গভীর রাতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় চালক-হেলপারের করুণ মৃত্যু

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে গভীর রাতে এক মর্মান্তিক ও হাড়হিম করা সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো দেশবাসী। মহাসড়কের পাশে বিকল হয়ে থেমে থাকা একটি এলপিজি সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান সজোরে ধাক্কা দিলে প্রাণ হারিয়েছেন ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী। বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার খাইয়ারা রাস্তার মাথা এলাকায় এই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় কেবল দুই প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

নিহত পরিবহন শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন—ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর আলম (৪০), যাঁর বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দুঃখিয়ারকান্দি গ্রামে এবং তাঁর সহকারী ১৮ বছর বয়সী তরুণ রাকিব হোসেন, যিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝাপুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। জীবিকার তাগিদে পথে নামা এই দুই শ্রমিকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে আসা লোহা ও সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকটির একটি চাকা হঠাৎ পাংচার হয়ে যায়। চালক জাহাঙ্গীর আলম ট্রাকটি মহাসড়কের ধারের লেনে থামিয়ে সহকারী রাকিবকে নিয়ে চাকা পরিবর্তনের কাজ শুরু করেন। গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মাঝে এই মেরামত কাজ দেখতে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক মানুষও সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই একই লেন দিয়ে আসা একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার তীব্রতা এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, কাভার্ড ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে লোহার স্তূপে পরিণত হয়। ট্রাকে থাকা ভারী এলপিজি সিলিন্ডারগুলো ছিটকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে ট্রাকের নিচে থাকা চালক ও সহকারীসহ আশেপাশে থাকা পথচারীরা গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতেই মারা যান জাহাঙ্গীর ও রাকিব।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোশারফ হোসেন তালুকদার জানিয়েছেন, রাতে মোট ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ঘাতক কাভার্ড ভ্যান ও ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বেপরোয়া গতির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে অনিরাপদভাবে যানবাহন মেরামত এবং রাতের বেলায় গতির প্রতিযোগিতা আবারও দুটি মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।