আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডব আর বজ্রপাতের মরণকামড়ে নিভে গেল দুটি তাজা প্রাণ। গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে এক কিশোর এবং এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর ও দুঃখজনক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ওই গ্রামের মো. বাবুর ছেলে মো. মিরাজ (১৬) বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি আমবাগানে কাজ করছিল। জ্যৈষ্ঠের এই উত্তপ্ত সময়ে যখন চারিদিকে আম প্যাকিংয়ের ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বজ্রপাতের শিকার হয় এই কিশোর। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মিরাজের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়; কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রায় একই সময়ে অন্য একটি ঘটনায় প্রাণ হারান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিহালা কলোনি গ্রামের মো. মুনিরুল ইসলাম (৪০)। তিনি ওই গ্রামের মো. মঙ্গল হোসেনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির আভাস দেখে মুনিরুল বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে কাজ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড শব্দে তাঁর ওপর বজ্রপাত হয়। আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে নিশ্চিত করেন।
বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা বা টিউবওয়েলের মতো ধাতব স্পর্শকাতর স্থানে অবস্থান করা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই দুটি ঘটনা তা আবারও প্রমাণ করল। আম সংগ্রহের এই মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ কাজ করেন। এমন প্রেক্ষাপটে বজ্রপাত নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দুটি পরিবারেই এখন চলছে মাতম। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।