খুলনা সদর হাসপাতালের সেবার মান এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের প্রকৃত চিত্র যাচাই করতে এক ঝটিকা অভিযানে নেমেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছান, তখন সেখানে সাধারণ রোগীদের ভিড় আর নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে ওঠে। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে মন্ত্রী সরাসরি হাসপাতালের রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে রোগীদের জন্য পরিবেশনের অপেক্ষায় থাকা তরকারি চেখে দেখার পর অত্যন্ত বিরক্ত হন এবং সেই খাবার মুখে দিয়েই ফেলে দেন।
উপস্থিত কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ধরনের অখাদ্য তরকারি কি আপনাদের নিজেদের বাসায় রান্না হলে খেতেন? রোগীদের কেন এমন নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে?” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্টকে তলব করেন এবং রোগীদের ডায়েট অনুযায়ী মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেন। খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।
খাদ্য সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসায় চরম অবহেলার প্রমাণ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় রোগীরা মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালে জলাতঙ্ক বা ‘রাবিস ভ্যাকসিন’ পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাঁদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে এই ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গাজী রফিকুল ইসলামকে জেরা করলে তিনি দাবি করেন, “সরাসরি সরবরাহ না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।”
তত্ত্বাবধায়কের এমন অজুহাতে সন্দেহ হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কালক্ষেপণ না করে সেখানেই দাঁড়িয়ে রাজধানী ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফোন করেন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকা থেকে জানানো হয়, ওই হাসপাতালের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন চেয়ে কোনো চাহিদাপত্রই পাঠানো হয়নি এবং তত্ত্বাবধায়ক কোনো প্রকার যোগাযোগও করেননি। অর্থাৎ, স্রেফ অবহেলার কারণেই রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ডাহা মিথ্যা বলার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ায় মন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং কর্তব্যে গাফিলতি ও মিথ্যাচারের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। মন্ত্রীর এই আকস্মিক অ্যাকশনে হাসপাতালজুড়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রোগীরা মন্ত্রীর এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে অন্তত সরকারি হাসপাতাগুলোতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও খাবারের অধিকার নিশ্চিত হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।