ভিকারুননিসায় নতুন যুগের সূচনা: আজ থেকে শুরু হলো ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন সশরীর ক্লাস

রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতির সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় এই নতুন রুটিন কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি ক্লাসরুমে এবং বাকি তিন দিন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ঘরে বসে অনলাইনে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে।

গত শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এই নতুন শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। নোটিশ অনুযায়ী, আজ রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) থেকেই এই ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন এই সময়সূচি অনুযায়ী—শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ‘অফলাইন’ ক্লাসে অংশ নেবে। অন্যদিকে রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার পাঠদান পরিচালিত হবে ‘অনলাইন’ মাধ্যমে। প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে গণ্য হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ‘ব্লেন্ডেড’ (Blended) বা মিশ্র পদ্ধতির পাঠদান চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মতো রাজধানীর প্রভাবশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম তাঁর নোটিশে উল্লেখ করেছেন যে, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় রুটিন এবং ক্লাসে যুক্ত হওয়ার ‘লিংক’ (Link) সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষকেরা নিজস্ব ক্লাস গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেবেন। বেইলি রোডের মূল শাখার পাশাপাশি ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা—এই তিনটি শাখার কলেজ বিভাগেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন কেবল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করবে না, বরং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই সমন্বয় শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের জন্য আরও দক্ষ করে তুলবে বলেও আশা করছে মন্ত্রণালয়। তবে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এটি সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।