আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার হলে কড়াকড়ি ও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন ও কঠোর নিয়মের আশঙ্কায় অনেক পরীক্ষার্থীকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজপথে প্রতিবাদমুখর হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো জায়গায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেও স্লোগান দিয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আন্দোলনরত ও ‘ভীতসন্ত্রস্ত’ শিক্ষার্থীদের অভয় দেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, "আমি ফেসবুকে দেখছি, তোমরা অকারণে নিজেরা নিজেরা ভয় পাচ্ছো। ভয়ের তো কোনো কারণ নেই। সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেবে তোমরা।"
পরীক্ষা কেন্দ্রের তদারকি বা মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়ে নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি অতীতে তাঁর আলোচিত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে আগের মতো সশরীরে সব জায়গায় উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, "এখন কী আগের দিন আছে যে, আমি ঘুরে-ঘুরে দেখবো, হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরবো? এখন প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকবে, আমি নিজ রুমে বসেই ডিজিটাল স্ক্রিনে সব দেখবো, ভিডিওতে সব মনিটর করবো।"
শুধু পরীক্ষার হল নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিয়েও নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান ড. মিলন। তিনি জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন কি না এবং তাঁরা ক্লাসে উপস্থিত থাকছেন কি না, সেটিও ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়ান কি না, সেটির রেকর্ড থাকতে হবে। এটা নিয়ে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ট্রল’ করেন, কিন্তু এটি অত্যন্ত সাধারণ এবং জরুরি একটি বিষয়। সব তথ্য ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকবে।"
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের এই অহেতুক আতঙ্ক কাটিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি বা উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করার জন্য নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, নকলমুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সুফল পেতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া