রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) অভ্যন্তরে একটি ফেসবুক কমেন্টকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে রাকসু ভবনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কার্যালয়ে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর তীব্র বাকযুদ্ধ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার রেশ ধরে পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে রাকসু জিএসের পদ স্থগিতের জোরালো দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার, যখন শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইনে রাকসুর কার্যকারিতা নিয়ে একটি বিদ্রূপাত্মক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন— “রাকসু ফরজ কাজ বাদ দিয়ে নফল কাজেই বেশি মনোযোগী এবং পারদর্শী।... নফল দিয়েই যদি বৈতরণী পার হওয়া যায়, তাহলে ফরজের আর দরকারটা কি!” এই পোস্টের নিচে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার পাল্টা মন্তব্য করে লিখেন— “চুল্কানি শুরু? মলমের নাম নুরু।”
এই মন্তব্যটি ঘিরেই মূলত সংঘাতের সূত্রপাত। ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আম্মার এই ছন্দের আড়ালে বর্তমান সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ এবং কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে বিষয়টির কৈফিয়ত চাইতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জিএসের চেম্বারে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরবর্তীতে রাকসু ভবন থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিং করেন মেহেদী মারুফ। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিন আম্মারের এই ভাষা ব্যবহার অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করেছে। মারুফ বলেন, “আম্মার তাঁর পদের অমর্যাদা করেছেন এবং তাঁর নৈতিক স্খলন ঘটেছে। আমরা রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব স্যারের কাছে অবিলম্বে আম্মারের জিএস পদ স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এই ঘটনাকে একটি ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি কেবল ছন্দ মেলাতেই ওই শব্দটি ব্যবহার করেছি। এটি মূলত সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের নেতাকে কখনোই এত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আমার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের রয়েছে।” ক্যাম্পাস রাজনীতিতে এই ‘কমেন্ট-যুদ্ধ’ বর্তমানে শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।