২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ মোট ২২ জন প্রভাবশালী আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে আজ আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এই বহুল প্রতীক্ষিত আদেশটি প্রদান করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলায় বর্তমানে পাঁচজন আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁরা হলেন—চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। আজ তাঁদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ড. হাছান মাহমুদ, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন এবং রেজাউল করিমসহ ১৭ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা টানা তিন কার্যদিবস ধরে তাঁদের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে আনুষ্ঠানিক শুনানি শেষ করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান দাবি করেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদানের অভাব রয়েছে। একই সাথে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরাও পলাতক আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রসিকিউশন পক্ষ গত ২২ জুন আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দায় বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও ‘চার্জ ফ্রেম’ বা অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়।
উল্লেখ্য, এই মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেছে। প্রথম অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রের শাহাদাতের ঘটনা। এছাড়া ৩ নম্বর অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুলিবর্ষণ করে গুরুতর আহত করার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ৫ এপ্রিল মামলার ‘ফরমাল চার্জ’ দাখিলের পর ৭ এপ্রিল তা আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আজকের এই আদেশের ওপরই নির্ভর করছে জুলাই বিপ্লবের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।