নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আট বছর বয়সী এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকা। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েছে আসামির ক্ষুব্ধ স্বজন ও সহযোগীরা। বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বাড়িতে এই নজিরবিহীন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি এবং অভিযুক্ত যুবক হিমেল (২১) উভয়েই সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। বুধবার বিকেল থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর সন্ধ্যার দিকে শিশুটি আকস্মিকভাবে বিবস্ত্র ও বিপর্যস্ত অবস্থায় নিজ বাসার দিকে দৌড়ে আসে। পরবর্তীতে শিশুটি তাঁর ওপর হওয়া পাশবিক আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযুক্ত হিমেলকে আটক করতে ওই বাড়িতে অভিযানে যায়। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানো মাত্রই এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হিমেলকে যখন হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই তাঁর স্বজনেরা আশপাশের লোকজন জড়ো করে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাঁরা ধৃত আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের লক্ষ্য করে উত্তেজনা ছড়ায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেশ মিডিয়াকে বলেন, “শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হিমেলকে আটক করতে গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এমনকি তাঁরা পুলিশকে বাধা দিয়ে আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আমাদের সাথে পর্যাপ্ত ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকার কারণে তাঁদের সেই অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এই ধস্তাধস্তিতে পুলিশের কোনো সদস্য গুরুতর আহত হননি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পৈশাচিক এই চেষ্টার শিকার শিশুটিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশি কাজে বাধা দেওয়া এবং শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে হিমেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি কঠোর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই নক্কারজনক ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।