মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার সকালে হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই শোকাবহ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ওই ওয়ার্ডের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যেখানে কৃত্রিম বাতাস চলাচলের (ভেন্টিলেশন) কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না।


পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোরবেলায় পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে এসি-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা অন্য কোনো কারণে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমরা দেখেছি, এসির ব্যবস্থাপনা এমন ছিল যে এটি বন্ধ হওয়ার পর সেখানে বাতাস চলাচলের আর কোনো সুযোগ ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত, ওই সময় সেখানে চিকিৎসাধীন ছয়টি নবজাতক প্রাণ হারিয়েছে।’


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন প্রসূতি মা ছিলেন, যার মধ্যে ছয়জনের নবজাতক মারা গেছে। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। বাকি পাঁচটি শিশু যাদের জন্মগত শারীরিক জটিলতা ছিল, তারা হাসপাতালে এনআইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন রয়েছে।


ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের একজন উপপরিচালক এবং অধিদপ্তরের অন্য একজন কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তদন্তের আওতা সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, অথবা অবকাঠামোগত বা কারিগরি কোনো ত্রুটি বিদ্যমান ছিল কি না-সবই খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের কমিটিতে যুক্ত করা হবে। এসির গ্যাসলাইনে কোনো লিকেজ ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’


উল্লেখ্য, ঘটনাটি জানার পরপরই রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশের ধারণা, এসি বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা অবকাঠামোগত ত্রুটির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।