বেইজিংয়ে তারেক রহমান ও চীনা মন্ত্রীর বৈঠক; খালেদা জিয়ার ছবি কেন রাখা হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে?

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও কৌশলগত বন্ধুত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষে বেইজিংয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতেই লিউ হাইক্সিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। এই সময় এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে চীনা মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ৯ বার চীন সফরের স্মৃতি এবং তাঁর সম্মানে ২০০১ সালের ঐতিহাসিক সফরের একটি ছবি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির রাষ্ট্রীয় জাদুঘরে সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। এই তথ্যের মাধ্যমে তিনি দুই দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলেন।

বৈঠকে বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MOU) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। লিউ হাইক্সিং দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও নিবিড় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক (Think Tank), দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, চীন সব সময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পাশে থাকবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ‘লিগ্যাসি’ বা ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল’ নির্মাণে বেইজিংয়ের সরাসরি কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের এই নিবিড় অংশীদারত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। চীনা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন এবং তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের জীবন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকে অংশ নেন। চীনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই বৈঠক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।