বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যে জ্ঞানালোকের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষ পেরিয়ে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং আগামীর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা এক চেতনার নাম। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বিনম্র চিত্তে স্মরণ করেন সেই সব অকুতোভয় শিক্ষার্থীদের, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, “অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্রকে এখন সুসংহত করার সময় এসেছে এবং এই গুরুদায়িত্ব পালনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।”
এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ বিষয়টিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে অভিহিত করেন তারেক রহমান। তিনি আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার আমূল সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে কেবল মুখস্থ বিদ্যা ও ‘সার্টিফিকেট’ অর্জন করে বিশ্ববাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে ঢেলে সাজাতে হবে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক বিষয়গুলোকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”
শিক্ষাকে কর্মমুখী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি কেবল কাগজের কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি মেধার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হয়, তবে অ্যালামনাইরা হলো এর মেরুদণ্ড। উন্নত বিশ্বের মতো আপনারাও নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এগিয়ে আসুন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি চান প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি আন্তর্জাতিক ভাষায় পারদর্শী হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। সবশেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং এই বিদ্যাপীঠ আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল কারিগর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।