দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে কি মুক্তি পাচ্ছে ঢাকা? বায়ুমানের বড় উন্নতিতে কাটছে দীর্ঘদিনের শঙ্কা

মেগা সিটি ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য আজ মঙ্গলবার এক সতেজ সকালের বার্তা নিয়ে এসেছে আবহাওয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের গুমোট এবং দূষিত বায়ুমণ্ডলের বলয় ভেঙে ঢাকার বাতাসের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ (IQAir)-এর তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে ঢাকার ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (AQI) বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১০৮। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন ১১তম।

গত মাসজুড়েই ঢাকা প্রায় প্রতিদিন দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষ তিনে অবস্থান করছিল এবং বায়ুমান ছিল চরম ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে। তবে বর্তমানের এই স্কোর নির্দেশ করছে যে, ঢাকার বাতাসের মান এখন ‘মধ্যম’ বা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। আজকের তালিকায় ১৭৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। এ ছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা (১৬৫) এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৩)।

বায়ুমান সূচকের নিয়ম অনুযায়ী, স্কোর ১০০-র নিচে থাকলে তাকে ‘মাঝারি’ বা সহনীয় পর্যায় ধরা হয়। বর্তমানে ঢাকার ১০৮ স্কোর মূলত ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিরা যেন দীর্ঘ সময় বাইরে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকেন। তবে সাধারণ নগরবাসীর জন্য এটি গত কয়েক মাসের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আগমনে ধুলিকণা থিতিয়ে পড়া এবং বায়ুমণ্ডলের কার্বন স্তর হালকা হওয়ার ফলেই এই পরিবর্তন। তবে বৈশ্বিক চিত্র এখনো বেশ ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারান। দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ এই বিষাক্ত বাতাস। ঢাকার মতো জনবহুল শহরের জন্য বাতাসের এই সাময়িক উন্নতি জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।