ডেঙ্গু চিকিৎসায় বড় ঘোষণা: বেসরকারি হাসপাতালে ১০% শয্যা সংরক্ষণ ও পরীক্ষা খরচে ৮০% ছাড়!

বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবনতি মোকাবিলায় একগুচ্ছ বৈপ্লবিক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাম বা ‘মিজলস’ মোকাবিলায় যে দক্ষতা দেখানো হয়েছে, তার চেয়েও অধিক ক্ষিপ্রতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান।

সচিবালয়ের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করে বলেন, “ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে তাঁদের মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, এসব রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা কোনো ‘ভিজিট ফি’ গ্রহণ করতে পারবেন না। রোগীরা কেবল ওষুধ ও খাবারের ন্যূনতম খরচ বহন করবেন।” এ ছাড়াও রোগীদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে ডেঙ্গু সংক্রান্ত যাবতীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফি-তে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাঠপর্যায়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সারাদেশে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে। হাসপাতালগুলোতে যাতে জীবন রক্ষাকারী ‘ফ্লুইড’ ও স্যালাইনের সংকট না হয়, সেজন্য এখনই পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে তাঁদের বর্তমান মজুত পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য আগামী তিন দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত দেশে চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সংখ্যাকে শূন্যের কোঠায় রাখা। মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান নিয়ে জনমনে থাকা সংশয় দূর করতে তিনি বলেন, “ব্যবহৃত কীটনাশক ভারত থেকে আমদানি করা হয় এবং আমাদের পরীক্ষাগারে এর মান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। তবে মাঠপর্যায়ে স্প্রে করার সময় ওষুধের সঙ্গে কেরোসিন মিশিয়ে জালিয়াতি করার কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি, যা সিটি করপোরেশন বর্তমানে কঠোরভাবে তদারকি করছে।”

সবশেষে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ব্যর্থ হবে। তাই কেবল প্রশাসন নয়, করপোরেট সেক্টরসহ সাধারণ মানুষকেও এই যুদ্ধে শামিল হতে হবে।” করোনা ও হামের মতো মারণব্যাধি যেভাবে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়েছে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেও সেই একই লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।