হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জন্মদিনে ড্রোন হামলার ছক! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ নেতারা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহের শেষে এক প্রলয়ংকরী হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারত। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) গতকাল মঙ্গলবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের লনে আয়োজিত ‘আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ (UFC) মিক্সড মার্শাল আর্ট অনুষ্ঠান চলাকালে একটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এফবিআই-এর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও আধুনিক রণকৌশল অবলম্বনের চেষ্টা করেছিল। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের উত্তর পাশে আঘাত হানা। এর উদ্দেশ্য ছিল ড্রোন হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে সেখানে উপস্থিত ভিআইপি অতিথিদের একটি নির্দিষ্ট ‘এক্সিট’ বা বের হওয়ার রাস্তার দিকে ঠেলে দেওয়া। এরপর সেই রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা স্নাইপারদের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘ইউএফসি আমেরিকা ২৫০’ নামক এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ৮০তম জন্মদিন পালন করছিলেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বড় মাপের রাজনৈতিক অনুদানকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, ধৃত পাঁচ ব্যক্তি কট্টর সরকারবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী। বিশেষ করে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের ফাইলগুলো যেভাবে প্রশাসন সামলেছে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত একজন এমন আইনপ্রণেতাদের ওপর হামলা করতে চেয়েছিলেন, যাঁরা ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ করেছেন। এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, গত ১০ জুন এই সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে তথ্য পায় গোয়েন্দা সংস্থাটি।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল জানিয়েছে, এই ষড়যন্ত্রের জালে মোট ২৩ জন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল চক্রান্তটি সামনে আসে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক মায়ের ফোন কলের মাধ্যমে। ১৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন টাইসেন প্রপারের মা লক্ষ্য করেন তাঁর ছেলে বিপুল অস্ত্র কিনছে এবং অনলাইনে রহস্যময় ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। পরে টাইসেন এফবিআই-এর কাছে স্বীকার করেন যে তিনি এই সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন।

বর্তমানে ফ্রান্সের এভিয়ানে জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে আগে কিছু শোনেননি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তিনি বলেন, “মোটা অঙ্কের অর্থায়ন এবং সুশৃঙ্খল সমন্বয় ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির মতো সুরক্ষিত জায়গায় এমন সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা অসম্ভব।” কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের পেছনের অদৃশ্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।