সিরিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলে পুনরায় সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের আলো ফোটার আগেই দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীণ এলাকায় শুরু হয় কামানের গোলাবর্ষণ। বিশেষ করে জামলাহ গ্রামের আশপাশের উর্বর কৃষি জমি লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় ওই এলাকার আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি নজরদারি বা ‘রেকোনাইস্যান্স ড্রোন’ চক্কর দিতে দেখা গেছে, যা নতুন করে বড় কোনো অভিযানের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা (SANA)-র বিশেষ সামরিক বুলেটের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া একটি শক্তিশালী কামানের গোলা সরাসরি জামলাহ গ্রামের ফসলি জমিতে এসে আঘাত হানে। যদিও এই আকস্মিক গোলারূপাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মানুষের হতাহত হওয়া কিংবা ঘরবাড়ির বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার এই অঞ্চলে ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত রোববারও দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় আবদিন গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী একটি ঝটিকা অভিযান চালিয়েছিল। সে সময় গ্রামের উপকণ্ঠে নির্বিচার গোলাবর্ষণ শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল পাথর ছুঁড়ে সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সাধারণ মানুষের এমন প্রবল বাধার মুখে ইসরায়েলি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়, যা নিয়ে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা নিয়মিত তল্লাশি, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং যত্রতত্র সামরিক ‘চেকপোস্ট’ স্থাপনের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে কৃষি জমিতে এই ধরনের হামলাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন সমরবিদরা। আজকের এই হামলার পর দারা প্রদেশসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।