যুদ্ধবিরতি ভেঙে বৈরুতে ইসরায়েলি তাণ্ডব; নেতানিয়াহুর হিটলিস্টে ছিলেন মালেক বালু

দক্ষিণ লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তের উত্তেজনা যখন স্তিমিত হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই বৈরুতের আকাশে আবারও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা গেল। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, দক্ষিণ বৈরুতের ঘোবেইরি এলাকায় এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই অভিযানে হিজবুল্লাহর এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত ‘রেদওয়ান ফোর্স’-এর কমান্ডার মালেক বালুকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয় এবং বেশ কিছু স্থাপনা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সরাসরি এই হামলার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। নেতানিয়াহু কঠোর ভাষায় বলেন, “ইসরায়েলি বসতিগুলোতে হামলা এবং আমাদের সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য এই রেদওয়ান ফোর্স সরাসরি দায়ী। যারা আমাদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।”

হামলার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, লেবাননের রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে এক ধরনের শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল। বাস্তুচ্যুত হওয়া সাধারণ মানুষ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছিলেন এবং রাজপথে মানুষের চলাচলও বাড়তে দেখা যাচ্ছিল। গত ৯ এপ্রিলের পর রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এই প্রথম বিমান হামলার ঘটনাটি ‘অলিখিত সমঝোতা’র সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, কেবল বৈরুত নয়, লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকাতেও হানা দিয়েছে ইসরায়েলি বোমারু বিমান। সেখানে পৃথক হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই সময়ে তাদের ১৭ জন সেনা ও ১ জন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে এই হামলা ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করার ঘটনাটি একটি ‘ডেডলাইন’ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা উভয় পক্ষকে আবারও এক সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে যে, কাগজের ওপর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি অচিরেই অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।