বিশ্ব রাজনীতির এক সময়ের দাপুটে নেতা ও কিউবার বিপ্লবী কমান্ড্যান্ট রাউল কাস্ত্রোকে নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রহস্যের অবসান ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে খুনের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিত হলেন ৯৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা। শুক্রবার কিউবার রাজধানী হাভানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর সরব উপস্থিতি দেশটির সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। ওই আইনি পদক্ষেপের পর থেকে কিউবান এই বিপ্লবীকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না, যা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল। গত বুধবার ৯৫ বছরে পদার্পণ করা এই বর্ষীয়ান নেতাকে সর্বশেষ গত মে মাসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এক র্যালিতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেখা গিয়েছিল। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পর রাউল কাস্ত্রোর গতিবিধি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা এই অভিযোগের মূলে রয়েছে ১৯৯৬ সালের একটি ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, কিউবার নির্বাসিত নাগরিকদের একটি সংগঠনের পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আকাশেই গুলি করে ভূপাতিত করার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাউল কাস্ত্রো। সেই ভয়াবহ হামলায় চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন দশক পর সেই পুরনো ক্ষত পুনরায় খুঁচিয়ে তুলে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ওয়াশিংটন ও হাভানার কমিউনিস্ট সরকারের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ তোলার আগে বছরের শুরুতে রাউল কাস্ত্রোকে বেশ সক্রিয় দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে ১৫ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরার লক্ষ্যে মার্কিন অভিযানে নিহত ৩২ জন কিউবান সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
তবে কিউবা সরকার শুরু থেকেই এই মামলাকে ভিত্তিহীন এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হাভানার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল কিউবার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করতেই এই সাজানো মামলা সামনে নিয়ে এসেছে। বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিকভাবে কিছুটা নুইয়ে পড়লেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে রাউলের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে কিউবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর প্রভাব আজও অমলিন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাউলের এই প্রকাশ্য উপস্থিতি মূলত মার্কিন চাপের মুখে কিউবার এক ধরনের প্রতিবাদী বার্তা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।