মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস? ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের গন্ধে ভারী আকাশে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল ওয়াশিংটন। দীর্ঘ আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে একমত হয়েছে। তবে এই শান্তির স্থায়িত্ব পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর গতিবিধির ওপর। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রধান শর্ত হলো হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সমস্ত ধরনের হামলা অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সাথে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে এই চুক্তিতে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাসের সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে আনতে একটি বড় ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে।

চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক বিশেষ এলাকা গঠন। যদিও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও দুই দেশ কিছু নির্দিষ্ট এলাকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে যেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী বিচরণ করতে পারবে না। এসব এলাকার নিরাপত্তার একক দায়িত্ব থাকবে লেবাননের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ওপর। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর প্রভাব কমিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে শান্তির এই বার্তার দিনেও রণক্ষেত্রে উত্তাপ কমেনি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর চালানো বিধ্বংসী হামলায় অন্তত নয়জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয় প্রমাণ করে যে, আলোচনার টেবিলে যে সমঝোতা হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা কতটা চ্যালেঞ্জিং।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে ইরানকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের ওপর ধারাবাহিক হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এরপর থেকেই সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। ওয়াশিংটনের এই বৈঠকটি ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি সংলাপ। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষে আগামী ২২ জুনের পর দুই পক্ষ পুনরায় পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে। আপাতত বিশ্ববাসীর নজর এখন হিজবুল্লাহর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যার ওপর নির্ভর করছে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।