পরকীয়ার তথ্য দিয়ে বিল গেটসকে ব্ল্যাকমেইল? এপস্টিন ফাইল নিয়ে কংগ্রেসে বিস্ফোরক মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস মার্কিন কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র সামনে এক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন। রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল তথ্য, বিশেষ করে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল বা চাপে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। বুধবার ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত এই শুনানিকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতি ও প্রযুক্তি বিশ্বে এক নজিরবিহীন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

শুনানির উদ্বোধনী বক্তব্যে বিল গেটস অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, “আমি এপস্টিনকে কোনো দিনই কোনো অনৈতিক কাজ করতে দেখিনি। আমি কখনো তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার আবাসে পা রাখিনি। তিনি হয়তো আমার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আমার তাতে কোনো আগ্রহ ছিল না।” তবে গেটস স্বীকার করেছেন যে, এপস্টিনের অপরাধের গভীরতা না বুঝেই তাঁর সাথে পরিচয় রক্ষা করা ছিল তাঁর জীবনের ‘মারাত্মক এক ভুল’।

বিল গেটসের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এপস্টিন অত্যন্ত কৌশলী ও নোংরা পথে হাঁটেন। গেটসের পরকীয়া সম্পর্কে যা জানতেন, তার সাথে আরও কিছু মিথ্যা যোগ করে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিনি বিল গেটসকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন। গেটস বলেন, এপস্টিন তাঁর নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আমাকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। এই জবানবন্দির পর ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবারি মন্তব্য করেন যে, গেটস জানতেন এপস্টিন একজন সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী, তবুও দাতব্য কাজের জন্য বড় দাতাদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে তিনি এই সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

শুনানিতে এপস্টিনের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু বিস্ফোরক ও যাচাই না করা খাসড়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০১৩ সালের সেই সব চিরকুটে এপস্টিন দাবি করেছিলেন যে, তিনি গেটসের জন্য ‘যৌন মিলনের ব্যবস্থা’ করেছিলেন এবং গেটসের একটি যৌনবাহিত সংক্রমণ (STD) তাঁর স্ত্রী মেলিন্ডার কাছ থেকে লুকাতে ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। তবে কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া জানান, বিল গেটস এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গেটসের মতে, এপস্টিন নিজেই নিজেকে এমন সব কাল্পনিক ই-মেইল লিখতেন যা বাস্তবে কখনো ঘটেনি।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথিপত্রে বিল গেটসের নাম বারবার উঠে আসার প্রেক্ষিতে এই জিজ্ঞাসাবাদের আয়োজন করা হয়। জেমস কোমারের নেতৃত্বে থাকা এই কমিটি বিল গেটসের পর এবার অ্যালান ডারশোভিৎজসহ আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তলব করার পরিকল্পনা করছে। কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার শুনানি শেষে বিল গেটস কোনো গণমাধ্যমের সাথে কথা না বললেও একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি সব ফাইল প্রকাশের পক্ষে এবং আশা করেন যে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন। বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই স্বীকারোক্তি এপস্টিন মামলার জট খুলতে কতটুকু সহায়ক হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।