নেতানিয়াহুর জন্য আর কোনো অস্ত্র নয়! মার্কিন কংগ্রেসম্যানের বিস্ফোরক ঘোষণায় তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য মিত্র ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সমর্থনে এবার বড় ধরনের ফাটল দৃশ্যমান হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী নীতির কঠোর সমালোচনা করে দেশটিতে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগ ক্যাসার। তাঁর মতে, মার্কিন জনগণের কঠোর পরিশ্রমের করের টাকায় নেতানিয়াহু প্রশাসনের জন্য আর কোনো নতুন ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্র কেনা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

টেক্সাস থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট দলীয় ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত বলিষ্ঠ বিবৃতিতে তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। গ্রেগ ক্যাসার অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েলি সরকার গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, তাঁর মতে নেতানিয়াহু পরিকল্পিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ভয়াবহ ও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। মূলত মার্কিন স্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ থেকেই তিনি তেল আবিবকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের এই কঠিন পথে হাঁটছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের ‘প্রতিনিধি পরিষদ’-এ এই ঐতিহাসিক সংশোধনী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টমাস ম্যাসি। প্রস্তাবটি যদি সফলভাবে পাস হয়, তবে ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দকৃত বার্ষিক ৩৩০ কোটি (৩.৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বিশাল সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যাবে। একই সাথে এটি দেশটির ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট’-এর প্রস্তাবিত ‘বাজেট বিল’ থেকে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিলও পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার আইনি সক্ষমতা রাখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকলেও, এবার সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রশ্নে দুই দলের সদস্যদের এই বিরল ও যৌথ অবস্থান ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে কম্পন সৃষ্টি করেছে। মার্কিন আইনসভার প্রতিনিধি পরিষদে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কার মাঝে এই ভোটাভুটির ফলাফল বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।