প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশির ওপর দিয়ে ধেয়ে আসা প্রকৃতির রুদ্ররূপ ‘সুপার টাইফুন বাভি’ এখন চরম ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ রোটা দ্বীপে। আজ সোমবার শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার তীব্রতা নিয়ে দ্বীপটিতে আঘাত হানে। ঝড়ের ভয়াবহতায় দ্বীপটির স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং প্রাথমিক প্রতিবেদনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) জানিয়েছে, সুপার টাইফুন বাভি যখন রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন এর কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ মাইল বা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। ঝড়ের এমন প্রলয়ংকরী রূপের কারণে এনডব্লিউএস আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) জরুরি সতর্কতা জারি করে। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে সবচেয়ে নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিতে অথবা নির্ধারিত ‘শেল্টার’ বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট এই দ্বীপটিতে মাত্র দেড় হাজার মানুষের বসবাস। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই ছোট্ট ভূখণ্ডটি এখন কার্যত বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। রোটা মিউনিসিপ্যাল অপারেশনস সেন্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা লু রোজারিও পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা এখনো চরম প্রতিকূলতা সামাল দিয়ে টিকে থাকার লড়াই করছি। এখানে বাতাসের বেগ এতই তীব্র যে ঘরবাড়ি টেকা দায় হয়ে পড়েছে, অনেক এলাকা এরই মধ্যে প্লাবিত। বাসিন্দারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাঠাচ্ছেন।’ তিনি আরও জানান, ঝড়ের দাপটে একটি ‘মোবাইল টাওয়ার’ ভেঙে পড়ায় দ্বীপের অনেক অংশে মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
এনডব্লিউএসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ল্যান্ডন আইডলেট একটি ‘ফেসবুক লাইভ’ ব্রিফিংয়ে জানান, রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ২৯০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো বাতাস সেখানে এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রেখে যাচ্ছে। রোটা দ্বীপ বাদেও নিকটবর্তী টিনিয়ান দ্বীপ, গুয়ামের উত্তরাঞ্চল এবং সাইপান দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে ‘ক্যাটাগরি-১’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের মতো বাতাস বয়ে যাওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আইডলেট কিছুটা আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, ‘সুপার টাইফুন বাভি এখন এই এলাকা ছেড়ে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা আশা করছি আবহাওয়ার দ্রুত উন্নতি হবে। গত এপ্রিলের সুপার টাইফুন সিনলাকুর মতো এটি দীর্ঘ সময় এখানে অবস্থান করবে না, যা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।’
উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপ গুয়াম মিলিয়ে এই অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস। গুয়াম কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, সেখানে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে আকস্মিক ‘বন্যা’ দেখা দেওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর ‘বাজেট’ ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।