কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এক বসতঘরের দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে একটি পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসেমের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক রহস্যময় ও ভীতিসন্ত্রস্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবুল হাসেমের ছেলে আরিফুল ইসলাম রিফাত ও তাঁর স্ত্রীকে লক্ষ্য করেই মূলত এই হুমকির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁদের ঘরের প্রধান ফটকের সামনে সাদা কাফনের কাপড় এবং একটি হাতে লেখা চিরকুট ফেলে রেখে যায়। পরিবারের সদস্যরা যখন এটি দেখতে পান, তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রহস্যময় ওই চিরকুটের ভাষা ছিল অত্যন্ত কড়া ও হুমকিমূলক। সেখানে স্পষ্ট করে লেখা ছিল যে, পুলিশে অভিযোগ জানালেও কোনো লাভ হবে না এবং রিফাত ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করা হবে। এমনকি তাঁর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিশেষ বার্তা দিয়ে কাফনের কাপড়টি রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। চিরকুটের ভাষা ও উপস্থাপনার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, কোনো একটি পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে পরিবারটিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, এমন অভাবনীয় ও ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তাঁরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শত্রুতার কোনো স্পষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়ায় আতঙ্ক আরও প্রকট হয়েছে। ঘটনাটি জানার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন ‘দেশ মিডিয়া’কে জানান, “বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং পুলিশের একটি দল বিষয়টি তদন্ত করছে। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।”
ঘটনাটি কেবল ওই পরিবার নয়, বরং পুরো গ্রামের মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এই রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া