৭২ ঘণ্টা ভোগাতে পারে ইন্টারনেট; জরুরি সংস্কারের কবলে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল

দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা দুসংবাদ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। কুয়াকাটায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ‘সি-এমই-ডব্লিউই-৫’ (SEA-ME-WE 5)-এর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ বা ‘মেইনটেন্যান্স’ কার্যক্রমের কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরবর্তী তিন দিন ইন্টারনেটে ধীরগতি অনুভূত হতে পারে। আজ বুধবার বিএসসিপিএলসি-র পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুরমুখী সার্কিটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ বা প্রভাবিত থাকবে। ফলে দেশে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অনলাইন সেবা আংশিক বিঘ্নিত হতে পারে। যারা আন্তর্জাতিক সার্ভার বা হাই-স্পিড ডাটা ট্রান্সফারের ওপর নির্ভরশীল, তাঁরা এই সময়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।


তবে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দিয়ে বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, কক্সবাজারে অবস্থিত দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল ‘সি-এমই-ডব্লিউই-৪’ (SEA-ME-WE 4)-এর মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো যথারীতি সচল থাকবে। প্রথম ক্যাবলটি সচল থাকায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং বিকল্প পথে ট্রাফিক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মূলত সিঙ্গাপুরগামী ডাটা রুটে এই সংস্কার কাজ চলায় ওই নির্দিষ্ট রুটের গ্রাহকরা বেশি প্রভাবিত হবেন।


সাধারণত নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর এমন রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে এই তিন দিন ব্রডব্যান্ড এবং মোবাইল ইন্টারনেট-উভয় ক্ষেত্রেই ভিডিও স্ট্রিমিং বা বড় ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। বিএসসিপিএলসি এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের এই সময়ের কথা মাথায় রেখে তাঁদের কাজ বা ‘ডেডলাইন’ আগেভাগেই সমন্বয় করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।