বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপট এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ ও তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই মূল্য সমন্বয়ে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। শনিবার (৬ জুন) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে, দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী মোট গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই বর্ধিত দামের আওতামুক্ত থাকবেন। মূলত মুদ্রাস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই সরকারের এই নমনীয় অবস্থান।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানি শেষে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ‘আবাসিক লাইফ লাইন’ (০-৫০ ইউনিট) এবং ‘আবাসিক প্রথম ধাপ’ (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য আগের দামই বহাল রাখার ব্যবস্থা করেছে। যদিও সামগ্রিকভাবে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে না। বিইআরসির নতুন হার অনুযায়ী, পাইকারি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮.৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯.১১ টাকা থেকে ১০.৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জুন মাসের জন্য ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৮২ শতাংশই হলো ডিজেল, যা মূলত গণপরিবহন এবং কৃষি সেচ কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম না বাড়ায় যাতায়াত খরচ ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকছে না। তবে বিলাসিতা ও ব্যক্তিগত যানে ব্যবহৃত জ্বালানির ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া ‘অটোমেটিক প্রাইসিং’ বা স্বয়ংক্রিয়া মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার আওতায় প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে এই সমন্বয় করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাসে গড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-ইসরায়েল সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের ব্যারেল যখন চড়া, তখন ডিজেল ও লাইফ লাইন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের রেহাই দেওয়া সরকারের এক সাহসী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ। এই কৌশলী সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন বড় ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।