রাজধানীর পল্লবীর সেই বিভীষিকাময় ১৯ মে তারিখের রেশ কাটতে না কাটতেই চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে পৌঁছেছে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলা। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার রায় আগামীকাল রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ প্রত্যাশা করছে।
শনিবার (৬ জুন) মামলাটির আইনি মেরুকরণ নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বিগত কয়েক দিনের রুদ্ধশ্বাস শুনানিতে আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে যেভাবে ঘর থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার একমাত্র সাজা হলো মৃত্যুদণ্ড। আমরা আশা করছি, আদালত সমাজকে একটি কড়া বার্তা দিতে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রদান করবেন।”
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্ল্যাহ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তাঁরা আইন ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার লোমহর্ষক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা যখন নিজ ঘর থেকে বের হয়, তখন প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খুঁজতে শুরু করলে আসামিদের বন্ধ ঘরের সামনে রামিসার ছোট জুতা জোড়া পড়ে থাকতে দেখেন। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো উত্তর না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার খণ্ডিত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল খুনি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ২০ মে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা মাদকাসক্ত অবস্থায় শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেয়।
বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় ‘স্মার্ট’ ও দ্রুত গতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে এই মামলাটি। ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এরপর ১ জুন অভিযোগ গঠন এবং মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে কালকের রায়ের দিকে, যেখানে রামিসার মা-বাবার অশ্রুসজল চোখ খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রহর গুনছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।