৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি: শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি কার হাতে?

৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি: শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি কার হাতে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বেশ কিছু আসনের ফলাফল নিয়ে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই। অনেক আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান সামান্য হওয়ায় এবং কারচুপির অভিযোগ ওঠায় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট পুনর্গণনার (Recounting) জোরালো দাবি উঠেছে। এই স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আজ রবিবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কেবলমাত্র আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও আদেশ পেলেই বিতর্কিত আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়ম ও ফলাফল কারচুপির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে। শুধু এই জোটই নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আরও বেশ কয়েকজন পরাজিত প্রার্থী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদনের ওপর ইসির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—জানতে চাইলে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “ভোট পুনর্গণনার বিষয়টি এখন পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত যে নির্দেশ দেবেন, ইসি সেই অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য এবং সেই অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর প্রশাসনিকভাবে ইসির সরাসরি ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকায় এখন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের শেষ ভরসা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালত। কমিশনের এই বক্তব্যের পর এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা কোনো পিটিশন বা রিটের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ভাগ্য ঝুলে থাকছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত প্রার্থীদের আবেদনের সত্যতা যাচাই করে পুনরায় ব্যালট গণনার আদেশ দেন কি না। আপাতত আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ওই ৩২টি আসনসহ অন্যান্য বিতর্কিত নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত পরিণতি।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।