১০ বছরে দেশে ব্যবসা বেড়েছে ৫০ শতাংশ, তবুও ৮৬% উদ্যোক্তা ভুগছেন মূলধন সংকটে

বাংলাদেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেলেও উদ্যোক্তাদের জন্য এখনো প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত পুঁজি বা মূলধনের অভাব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ অর্থনৈতিক শুমারিতে উঠে এসেছে যে, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তাই ব্যবসা পরিচালনায় মূলধন সংকটের কথা জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে ২০২৪ সালের এই অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।


শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি, যা ২০২৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টিতে। অর্থাৎ গত ১১ বছরে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক। এই বিশাল সংখ্যক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে দেশে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। তবে এই অগ্রযাত্রার বিপরীতে উদ্যোক্তাদের মতামত গ্রহণ করে আটটি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।


পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো মূলধনের অপ্রতুলতা। এর পরেই রয়েছে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা। এছাড়া দক্ষ শ্রমশক্তির অভাব, কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্য বিপণনে সমস্যা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট উদ্যোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।


খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি খাতের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। এই খাতে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পরিবহন খাত এবং অন্যান্য সেবা (সার্ভিস) খাত। বিবিএসের এই শুমারি মূলত দেশের স্থায়ী ও অস্থায়ী সকল প্রকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, "একটি দায়বদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ করা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রমাণনির্ভর তথ্য-উপাত্তের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"


বিবিএস মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার। শুমারির কারিগরি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন বিবিএসের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তথ্যের ভিত্তিতে আগামীতে উদ্যোক্তাদের পুঁজি সংকট নিরসনে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।