বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বড় নির্দেশ: ফিরছে কি সোনালী দিন?

দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের মৃতপ্রায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অলাভজনক ও বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মূলত শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে সভার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব স্থবির হয়ে পড়া কারখানায় বিনিয়োগ করতে ইতোমধ্যে দেশি ও বিদেশি বহু বেসরকারি কোম্পানি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিনিয়োগের জন্য কোম্পানিগুলো যেসব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এবং নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে, সেগুলোর কারিগরি ও অর্থনৈতিক ‘সম্ভাব্যতা’ বা ফিজিবিলিটি এখন নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে এবং কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের স্বার্থে এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ’ বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সহ্য করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতকে একটি লাভজনক এবং টেকসই মডেলে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এটি সফল হলে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারের ওপর ভর্তুকির চাপ কমবে, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়াও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।